এই লেখায় যা আছে
হার্ট অ্যাটাক হয় যখন হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। যত দেরি হয়, হৃৎপিণ্ডের পেশি তত বেশি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, “Time is muscle” — সময় মানেই হার্টের পেশি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, বাংলাদেশে অনেক রোগী গ্যাস্ট্রিক ভেবে ঘরে বসে থেকে মূল্যবান ঘণ্টাগুলো হারান।
হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ
- বুকের মাঝখানে চাপ, ভার, চেপে ধরা বা জ্বালাপোড়া ব্যথা — সাধারণত ১৫–২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী
- ব্যথা বাম হাত, দুই হাত, চোয়াল, ঘাড় বা পিঠে ছড়ানো
- ঠান্ডা ঘাম
- শ্বাসকষ্ট
- বমি ভাব বা বমি
- মাথা ঘোরা, অস্থিরতা, মৃত্যুভয়
যাদের লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে
নারী, ডায়াবেটিস রোগী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বুকে তীব্র ব্যথা না-ও থাকতে পারে। বরং দেখা দিতে পারে:
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- পেটের উপরের অংশে অস্বস্তি — যা গ্যাস্ট্রিক বলে ভুল হয়
- হঠাৎ শ্বাসকষ্ট
- পিঠ বা চোয়ালে ব্যথা
৪০ বছরের বেশি বয়স, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে “গ্যাস্ট্রিক” ধরনের বুক-পেটের অস্বস্তি হালকাভাবে নেবেন না। একটি ইসিজি করাতে মাত্র কয়েক মিনিট লাগে।
এখনই কী করবেন
- দেরি না করে হাসপাতালে রওনা দিন — সম্ভব হলে যেখানে ইসিজি, সিসিইউ ও ক্যাথ ল্যাব আছে। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ৯৯৯-এ কল করতে পারেন।
- রোগীকে হাঁটতে বা পরিশ্রম করতে দেবেন না। আরামদায়ক অবস্থায় আধশোয়া করে বসান।
- টাইট কাপড় ঢিলে করুন।
- অ্যাসপিরিন: রোগীর অ্যাসপিরিনে এলার্জি বা সাম্প্রতিক রক্তক্ষরণের ইতিহাস না থাকলে, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০০ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ানো যায়।
- রোগী আগে থেকে নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে/ট্যাবলেট পেয়ে থাকলে ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন।
- রোগীকে একা রাখবেন না।
রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে: সিপিআর
রোগী সাড়া না দিলে ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে:
- চিৎকার করে সাহায্য ডাকুন, ৯৯৯-এ কল করুন।
- রোগীকে শক্ত সমতল জায়গায় চিত করে শোয়ান।
- বুকের মাঝখানে দুই হাত একটার ওপর আরেকটা রেখে, কনুই সোজা রেখে জোরে ও দ্রুত চাপ দিন — মিনিটে ১০০–১২০ বার, প্রায় ৫–৬ সেমি গভীর।
- সাহায্য না আসা পর্যন্ত বা রোগী সাড়া না দেওয়া পর্যন্ত থামবেন না।
সিপিআর শেখা একটি জীবন বাঁচানো দক্ষতা। পরিবারের অন্তত একজনের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখা ভালো।
হাসপাতালে যা হয়
ইসিজি ও রক্তে ট্রপোনিন পরীক্ষা করে হার্ট অ্যাটাক নিশ্চিত করা হয়। এরপর বন্ধ ধমনি খুলতে জরুরি এনজিওপ্লাস্টি (রিং পরানো) বা রক্তের জমাট গলানোর ওষুধ দেওয়া হয় — যত আগে, তত ভালো ফল। ঢাকায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, স্কয়ার, ইউনাইটেড ও এভারকেয়ার-এর মতো হাসপাতালে এই সুবিধা আছে। আগে থেকে জেনে রাখুন আপনার এলাকার কোন হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব আছে।
হার্ট অ্যাটাকের পর
- ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ (রক্ত পাতলা করার ওষুধ, স্ট্যাটিন ইত্যাদি) নিয়মিত — নিজে থেকে বন্ধ নয়
- ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ
- ধীরে ধীরে হাঁটা বাড়ানো, কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন
- নিয়মিত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের ফলো-আপ
ঝুঁকি কমাতে পড়ুন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কখন দেখাবেন।
ঢাকার অভিজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
নিচের তালিকাটি Doctor Talika-র ডাক্তার ডিরেক্টরি থেকে অভিজ্ঞতা, পদমর্যাদা ও রোগীদের রেটিংয়ের ভিত্তিতে সাজানো। প্রতিটি নামে ক্লিক করে চেম্বারের ঠিকানা, সময়সূচি, ভিজিট ফি দেখুন এবং সিরিয়ালের অনুরোধ পাঠান।

1Professor Dr. S.M. Mamun Iqbal
Cardiologist - Heart Specialist
MBBS (Dhaka Medical College), MD (Cardiology), MRCP (UK), Trained in Clinical and Interventional Cardiology, Professor, Department of Cardiology.
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
2Professor Dr. Mahbub Ali
Cardiologist - Heart Specialist
MBBS, MD, FACC, FSCAI (USA), Fellow American College of Cardiology, Fellow American Society for Cardiovascular Angiography Intervention, Former Departmental Head, Nationa...
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
3Professor Colonel Dr. Abu Yusuf Md. Shahidul Alam
Cardiologist - Heart Specialist
MBBS, FCPS (Medicine), FACP (Medicine) D-Card (China), MMed (Cardiology) (China) Advanced Training in Cardiac EPS & RFA (Turkey) Cardiology & Medicine Specialist Professo...
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
4Prof. Dr. M.A. Muqueet
Cardiologist - Heart Specialist
MBBS (India), DM (UK), MRCP (UK), FRCP (EU), FACC (USA), FESC (EU)
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →
5Professor Dr. M A Baki
Cardiologist - Heart Specialist
MBBS, D-Card (DU) FACC, FSCAI (America) Fellow Interventional Cardiology (Italy & Korea) Clinical and Interventional Cardiologist Professor, Cardiology (Rtd.) National In...
প্রোফাইল ও সিরিয়াল →সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন Doctor Talika-তে →
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা আর হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা কীভাবে আলাদা করব?
লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে আলাদা করা প্রায়ই সম্ভব নয়। পরিশ্রমে বাড়ে, চাপ ধরার মতো, হাতে-চোয়ালে ছড়ায় বা ঘাম হয় এমন ব্যথায় দেরি না করে ইসিজি করান। সন্দেহ হলে হাসপাতালে যাওয়াই নিরাপদ।
হার্ট অ্যাটাকে অ্যাসপিরিন কি সবাইকে দেওয়া যায়?
না। অ্যাসপিরিনে এলার্জি, সাম্প্রতিক রক্তক্ষরণ বা পেপটিক আলসার থাকলে দেওয়া উচিত নয়। সম্ভব হলে ফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অল্প বয়সে কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
হ্যাঁ। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ত্রিশের কোঠাতেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
সঠিক ডাক্তার খুঁজতে Doctor Talika (ডাক্তার তালিকা) আছে আপনার পাশে। বিভাগ, এলাকা ও বিশেষজ্ঞতা অনুযায়ী ডাক্তারের চেম্বার, সময়সূচি ও ফি দেখে সিরিয়াল নিন।
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে Doctor Talika সম্পাদকীয় টিম তৈরি করেছে। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনো ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা শুরুর আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান।